Showing posts with label সেদিন কেঁদেছিলাম খুব. Show all posts
Showing posts with label সেদিন কেঁদেছিলাম খুব. Show all posts
Monday, February 16, 2015
সেদিন কেঁদেছিলাম খুব -03
সেদিন কেঁদেছিলাম খুব -03
************-*******
বিমর্ষ হয়ে বসে আছে সুজন ৷ তুষার ডেকে বললো কি ব্যপার আংকেল কি ভাবছেন এত ৷ মনে হয় মনটা খুব খারাপ? চমকে উঠলো সুজন ৷ বললো নারে জীবনে মানুষ কত স্বপ্ন দেখে ৷ কত কল্পনা জমিয়ে রাখে ৷ আবেগ দিয়ে তৈরী করে স্বপ্নের তাজমহল ৷ সেখানে প্রেয়সীর ছোঁয়া অনুভব করে সুখ পায় ৷ কিন্তু বাস্তবতা বডই কঠিন ৷ যেখানে কল্পনার কোন স্থান নেই ৷ কল্পনা আর বাস্তবতার মাঝে যোজন যোজন ফারাক ৷ কত স্বপ্নই না ছিল আমার সেই হবে তোর কাকি কিন্তু সে আজ অন্যের ঘরনী ৷ স্বপ্ন দেখেছিলাম আমি ওকে নিয়ে কত ৷ আমার স্বপ্ন সব ভেঙ্গে গেল হৃদয় হয়েছে ক্ষত ৷ তুই জানিস আমি কখনো ওকে কোন অভিশাপ দেইনি ৷ এই বিচ্ছেদটাকে নিয়তির লেখা হিসেবে মেনে নিয়েছি ৷ আর আমি কখনোই তাকে অভিশাপ দিতে পারবোনা ৷ সে যে আমার হৃদয়েরই অবিচ্ছেদ্য অংশ ৷ সে একটু ব্যথা পেলে আমি পাই তার দশগুণ ৷ ও ভাল থাকুক এটাই আমার একমাত্র কামনা ৷ ওর সুখই সুজনের সুখ ৷ ওকে কাঁদতে দেখলে সুজন সবচেয়ে বেশী ব্যথা পাবে ৷ ওকে ভালবেসেছি বেসে যাব চিরদিনই ৷ আমার ভালবাসা পবিত্র ৷ ওকে কখনো ছুঁয়ে দেখিনি ৷ নিরাপদ দুরত্বে থেকে ওর চুলের গন্ধ পেতাম নাকে ৷ সে কিযে অনুভুতি ৷ ছুয়ে দেখার চান্স ছিল ৷ কেউ দেখে ফেলার ভয়ও ছিলনা ৷ তবুও ছুইনি কোনদিনও ৷ যদি ছুঁই চিরদিনের বন্ধনে বেধেঁই ছোয়ার ইচ্ছে ছিল ৷ কিন্তু সে বন্ধনে আর জডানো হলো না আমার ৷ বুকটা মাঝে মাঝে চিনচিনিয়ে জলে উঠে প্রচন্ড আবেগে চোখ বেয়ে অশ্রুর প্লাবন হয় ৷ মনে হয় এখনই গিয়ে ওকে তুলে নিয়ে আসি ৷ তুইতো জানিস ওখানেও আমার কয়েকজন ফ্রেন্ড আছে ৷ ইচ্ছে করলে সব করতে পারি ৷ কিন্তু বিবেক কখনো সায় দেয়না ৷ মনে হয় বিধাতা কেন বিবেক আর প্রেম সবই দেয় ৷ আজকে কেন আমার বিবেক আর প্রেম মুখোমুখি অবস্থানে দারিয়ে ৷ বিবেকের চাহিদা প্রেমকে কেন অন্যের হাতে তুলে দেয় ৷ যদি কিছুটা সময়ের জন্য বিবেকহীন হতে পারতাম তাহলেতো ওকে ছিনিয়ে আনতে পারতাম ৷ বিবেকের আদালতে হেরেই আমি হারিয়েছি তাকে ৷ নাহয় কেউ তাকে আলাদা করতে পারতোনা আমার থেকে ও থাকতো আমারি ৷ হায়রে বিবেক তুই কেন এত ভাবিস ৷ তোর ভাবনাই যে আজ আমার প্রেয়সীকে নিয়ে গেছে অনেক দুরে ৷ তুই একটু ঘুমিয়ে থাকনা আমি আমার পাখিটাকে আমার করে নেই ৷ বিবেক ঘুমাবার নয় সুজন বিবেক তোর পাহারাদার ৷ বিবেকের পাহারায় তুই নিরাপদে ৷ পরিবারে, সমাজে, বন্ধুমহলে তোর যতটুকু মুল্যায়ন সেটা তোর বিবেকই তোকে গড়ে দিয়েছে ৷ তুই কি চাস শুধু তোর প্রেয়সীর জন্য সব ত্যাগ করতে ৷ পারবি তুই? হয়তো পারবি ৷ কিন্তু তুই কি একটুও ভেবেছিস তোর পাখিটা ওখানেই সুখে আছে এখন তোর কোন হস্তক্ষেপ হয়তোবা ওর সব সুখ কেরে নেবে ৷ প্রেয়সীর চোখের পানি তুই সহ্য করতে পারবিতো যদি পারিস তবে আমি বিবেক ছুটি নিলাম ৷মানুষের সবচেয়ে বড় পাহারাদার তার বিবেক ৷ বিবেকের অনুপস্থিতি মানুষকে হিংস্র হায়েনাতে পরিনত করে ৷ সুজন হিংস্র হায়েনা হতে চায়না ৷ সুজন একজন মানুষ হিসেবেই বাঁচতে চায় তাই আর বিবেককে ছুটি দিতে পারলনা সুজন ৷ সুজন সত্যিই সুজন ৷ সুজন মানে নাকি ভাল মানুষ ৷ সুজন নিজের নামের ওপর অবিচার করেনি কখনো ৷
Saturday, February 14, 2015
সেদিন কেঁদেছিলাম খুব-02
সুজনের বন্ধুদের মধ্যে একজন আছে ওর ভাতিজা নাম তুষার ৷ ও সুজনের অনেক বেশী ঘনিষ্ঠ ৷ যদিও জুনিয়র তবুও সব সময় একসাথে চলাফেরা ৷ ওর মাধ্যমেই সুজনের জুনিয়রদের সাথে ঘনিষ্ঠতা বেড়েছিল ৷ তো তুষার একবার ঢাকায় এলো সুজনের কাছে ৷ ও প্রায়ই আসে কিন্তু সে বারেই ঘটেছিল এ গল্পের মুল ঘটনা ৷ সুজন আর তুষার বসে বসে গল্প সল্প করছিল ৷ এ সময় তুষারের ফোনে একটি মিসডকল আসল কলব্যাক করে তুষার কথা বললো ৷ দুজন দুজনাকে আপনি করে বলছে ৷ তবে ফোনের ওপাশের কন্ঠটা মেয়েলি কন্ঠ ৷ খুব মিষ্টি মেয়েটির কন্ঠ ৷ কয়েক মিনিট কথা বলে ফোন রাখলো তুষার ৷ সুজন তুষারকে জিজ্ঞেস করলো কেরে মেয়েটা পাইলি কই ৷ সে বছর তুষারের ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা ছিল সপ্তাহ খানেক আগেই পরীক্ষা শেষ হয়েছিল ৷ তুষার জানালো মেয়েটা তার সাথে পরীক্ষার সময় পরিচয় হয়েছিল এখন ওরা ভাল বন্ধু ৷ দেখ তোর বন্ধু না জি এফ সত্যি করে বল নইলে মারুম কিন্তু ৷ কসম চাচা ভাল বন্ধু ছাড়া আর কিছুই না , তবে কোনদিন হয়তো gf হইয়া গেলেও যেতে পারে ৷ সুজন বললো মেয়েটা কেমনরে বাপ ৷ তুষার উত্তর দিলো হাইট আপনার চেয়ে একসুতাও কম হবে না ৷ গায়ের রং আপনার মতই কিন্তু চিকনী চামেলী যেছকো ক্যাহতে হ্যায় ৷ চেহারা আকর্ষনীয় ৷ তবুও শুধু প্রেম করা যাবে বিয়ে করার মত নই ৷ তুষারের ব্যপক পরিবর্তন দেখে অবাক সুজন ৷ ছেলে বলে কি? প্রেম করার মত মেয়ে কিন্তু বিয়ে করার মত নয় ৷ যদি বিয়ে করার মত নাই হয় তাহলে কেনইবা প্রেম করার মত হবে? বিয়ে না করার চিন্তা করে প্রেম তার মানেই ঠকবাজি ৷ তুষার বললো আজকাল মেয়েরাও এমনই কারো সাথে প্রেম করে যাষ্ট ফর টাইমপাস ৷ তার চেয়ে উপযুক্ত পাত্র পেলেই প্রেমিকের পাছায় ফ্রি কিক ৷ এই হলো আজকের অবস্থায় ৷ কিন্তু সুজন মানতে রাজি নয় ৷ সুজন একবার একটা প্রেমে পরেছিল ৷ মেয়েটা ছিল সুজনের রিলেটিভ ৷ বাবা , মা, ভাই, বোন সবাই জানতো বিষয়টা ৷ মেয়েটার সাথে রিলেশন থাকার সময় সুজনকে আরো দু তিনজন মেয়ের ভাল লেগেছিল ৷ ওরা ছিলো সুজনের খালতো বোনের বান্ধবী ৷ বিভিন্ন সময়ে খালাতো বোন বলতো ওমুক আপনার সম্পর্কে একথা সেকথা বলে ৷ আপনাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে ৷ আপনি চাইলে মিলাইয়া দিতে পারি ৷ সুজনের খালাতো বোন ভাল করেই জানতো রিলেটিভ মেয়েটার সাথে সুজনের সম্পর্কের কথা ৷ তারপরও বলতো ৷ ভাই এসব কোন ব্যপারই না আজকাল ছেলে মেয়েরা প্রেম করে একজনের সাথে বিয়ে করে অন্যজনকে এটা কোন ব্যপার না ৷ প্রেম মানে টাইমপাস ৷ জীবনে যার সাথে প্রেম করে তাকে বিয়ে করলে মানুষটা থাকে বাট লাভটা থাকেনা ৷ প্রেম করে বিয়ে না করলে হয়তো মানুষটা থাকেনা কিন্তু লাভটা থেকেই যায় ৷ সুজন এসব মানতে রাজিনা ৷ তুষারের কথা শোনার পর সুজন কিছুক্ষণের জন্য অতীতে ফিরে গিয়েছিল ৷ তখনকার কথা গুলো চিন্তা করে তুষারের সাথে অনেকটাই একমত হলো সুজন ৷ ভাবছে সত্যিই তো তাই নাহয় আজ চার বছর হলো রিলেটিভ মেয়েটার বিয়ে হয়েছে কিন্তু আজও সুজন তাকেই কল্পনা করে স্বপ্ন দেখে ৷ মাঝে মাঝে সুজনের মনে হয় মেয়েটি হয়তো ফিরে এসে সুজনকে বলছে তুমি এত কি ভাবছো এইতো আমি ৷ তোমার সেই আমি আজও তোমারই আছি ৷ তোমারই থাকবো চিরদিন ৷ তুমি কি মনে কর আমি অন্যকারো হয়ে গেছি না না আজও তোমার আমি তোমারি আছি ৷ বাস্তবে সুজন জানেনা মেয়েটা এখনো সুজনকে ফিল করে কিনা ৷ বিয়ের চার বছরে একবারও সুজনের সাথে যোগাযোগ করেনি ৷ হয়তো ভুলে গেছে হয়তো না ৷ সুজন অনেক চেষ্টা করেছিল মেয়েটার সাথে যোগাযোগ করার কিন্তু পারেনি ৷ আবার সেই হারিয়ে যাওয়া প্রেয়সীর সুখের কথা চিন্তা করে কখনো থেমে যেত ৷ ভাবতো আমি যদি যোগাযোগের চেষ্টা করি তাহলে হয়তো আমার জানপাখিটার জীবনকে কালোমেঘ ঢেকে দিতে পারে না ৷ এটা হতে পারেনা ৷ ওকে সুখী দেখলেই আমার সুখ ৷ ওর কোন দুঃখ সুজন দেখতে পারবেনা ৷ হয়তো আমি তাকে এতটা সুখ দিতে পারতামনা ৷ তাই বিধাতা তাকে অন্যখানে নিয়ে গেছে যেখানটায় ও সুখী রবে ৷ তাহলে আমি কেন ওর জীবনে কালো মেঘ হয়ে উদিত হবো ৷ ওর ওপর আমার কোন অধিকার নেই ৷
সেদিন কেঁদেছিলাম খুব-01
সেদিন কেঁদেছিলাম খুব-01
==================
সুজন তার নাম ৷ ভালই স্মার্ট ৷ গায়ের রংটাও ফর্সা ৷ এভারেজ হাইট ৷ খুব-ই বন্ধুত্ব প্রবন ছেলে ৷ কারো সাথে কথা বলার সুযোগ পেলেই ফ্রেন্ডশিপ হয়ে যায় ৷ সুমিষ্ট বচনভঙ্গী ৷ একবার কারো সাথে কথা বললে মনে রাখতে হবে অনেকদিন ৷ ওর বন্ধুবান্ধব অনেক ৷ প্রায় পঞ্চাশ ষাট জন ৷ ও সবার কাছেই ভাল বন্ধু ৷ দু-তিন ব্যাচ সিনিয়র / জুনিয়ররাও ওর ফ্রেন্ড ৷ কাউকে কখনো অবহেলা করেনা ৷ তাইতো বন্ধুদের কেউ সময় পেলেই ফোন দেয় ৷ ওদের টোটাল গ্রুপটাই চরম আড্ডাবাজ গ্রুপ ৷ আড্ডাবাজিতেই মেতে থাকতে পছন্দ ওদের ৷ চাকুরি, ক্লাস কিংবা ব্যবসা যে যাই করে চান্স পেলেই আড্ডাবাজি ৷ ওদের আড্ডাটাও জমে বেশ ৷ কারো কোন কারনে মন খারাপ হলে এই আড্ডাই যেন তাদের রিফ্রেশ বাটন ৷ আড্ডা দিয়েই ভুলে যায় সব ৷ এভাবেই চলছে ওদের দিন ৷ তবে সবাই বেশ ভালো একটু আধটু দুষ্টামিতো থাকবেই ৷ সবাই সমাজের এ ক্লাস ছেলে ৷ সবাই এডুকেটেড ৷ ভাল ছাত্রও বটে এরকম একটা আড্ডাবাজ গ্রুপ সবার ভাগ্যে জুটেওনা ৷ সুজন ঢাকাতেই থাকে, ওর বাবা ছোটখাটো একটা বিজনেস করে ৷ সুজন বাবাকে কিছুটা হেল্প করে ৷ তা ছাড়া একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে পার্ট টাইম জব করে ৷ কমিশন বেজড হওয়াতে ভালই সুজনের ইনকাম ৷ কাজের ওপর নির্ভর করে 15000 - 55000 হাজার পর্যন্ত ৷ কিন্তু টাকা কোথায় যায় জানেনা সুজন ৷ মাঝে মাঝে সংসারে কিছু খরচ করে তবে রেগুলার না ৷ খারাপ কোন নেশাও নাই তার ৷ তার সবচেয়ে খারাপ নেশা তার নিজের দৃষ্টিতে সিনেমা দেখা ৷ সব সিনেমা আবার দেখেনা ৷ ভাল কোন সিনেমা এলে বন্ধুবান্ধব নিয়ে হলে গিয়ে দেখে ৷ আড্ডাবাজ সবখানেই আড্ডাবাজি করতে পছন্দ করে ৷ সিনেমা দেখা মানেই দু তিন হাজার খরচ ৷ হয়তো আগে নাহয় সিনেমার পরে কোন একটা ভাল রেষ্টুরেন্টে পেট ভরে খেতে হয় ৷ আর প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার গ্রামের বাড়ি আসতেই হয় সুজনের বন্ধুবান্ধবের সাথে গ্রামের পাশের নতুন রাস্তায় সপ্তাহে একবার আড্ডা দিতে না পারলে ওর যেন পেটের ভাত হজম হয়না ৷ গ্রামে অনেকই ওকে স্নেহ সন্মান করে ৷ ছোট বেলা থেকেই সুজন সেটা ধীরে ধীরে অর্জন করেছে ৷ পড়া লেখাও ঠিকঠাকমতো করে, আড্ডাবাজি, খেলাধুলা সবখানেই সুজন থাকে ৷ মসজিদের জামাতে ও পাওয়া যায় তাকে ৷ সামাজিক কাজে যথাসাধ্য লেগে থাকার চেষ্টা করে ৷ কারো বিপদ আপদে সামান্যতম সহযোগিতা করতে পারাই তার কাছে গর্বের বিষয় ৷ তাইতো সুজন অনেকের কাছে আদরনীয়, অনেকের চোখে শ্রদ্ধারপাত্র , কারো কাছে পরম বন্ধু ৷ বাবা মা, ভাই বোন সকলের বিশ্বস্ত সুজন ৷ মাঝ রাত পর্যন্ত বাইরে আড্ডা দিলেও কেউই কিছু বলেনা ৷ সুজন ডিগ্রীপাশ করেছে রেজাল্টও ভালো ৷ আজ অবদি কোন শিক্ষক তার বিরুদ্ধে বাবা মায়ের কাছে বিচার দিতে পারেনি ৷ গ্রামের মানুষরাতো নয়ই ৷ যদি কোন অচেনা লোক সুজনের গ্রামে কোন বিষয়ে সুজনের নামে বাজে কোন বিষয়ে বিচার দিতে আসে তাহলে মার খাওয়ার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে ৷ আর ওদের আশেপাশে দশগ্রামে ওর অনেক বন্ধু ৷ সবার কাছেই সুজন ভাল বন্ধু ৷ যেখানেই যায় বন্ধ নাহয় বন্ধুর পরিচিত কাউকেনা কাউকে পেয়ে যায় ৷ চলবে........
Subscribe to:
Posts (Atom)