Showing posts with label গল্প নয় বাস্তব সত্য. Show all posts
Showing posts with label গল্প নয় বাস্তব সত্য. Show all posts

Sunday, February 15, 2015

গল্প নয় বাস্তব সত্য - 07

গল্প নয় বাস্তব সত্য - 07 ================== সাক্ষাতকার কক্ষ থেকে বের হলো সবাই ৷ গরমে সেদ্ধপ্রায় হয়ে ৷ একটু বিশ্রাম নিয়ে গেল সবাই কারা ক্যান্টিনে ৷ সেখান থেকে ছোটর জন্য কিছু শুকনো খাবার আর কিছু ফ্রুটস কিনলো ৷ সাবান, টুথপেস্ট , ব্রাশ , আর প্রয়োজনীয় যা কিছু লাগে সবই পাঠালো ছোটর জন্য ৷ পরের কাজ পিসিতে টাকা জমা দেওয়া ৷ খাবার কিনে খেতে হবেতো ছোটকে ৷ শুকনো খাবারতো অর্ধেকও পাবেনা ছোট ৷ তবুওতো কিছু খাবার দিতেই হবে মনতো মানেনা ৷ পিসিতে টাকা দিয়ে বের হল সবাই ৷ চাচাতো , জেঠাতো , আর মেজোকে বললো তোরা চলে যা আমি দোস্তর কাছ থেকে টাকাটা নিয়ে আসি ৷ পরক্ষনেই আবার ভাবলো যদি এখন গিয়ে দোস্তকে না পাই তাহলেতো মেসে ফেরার ভাড়া হবে না, আগে ফোন করে কনফার্ম হই ৷ এই তোরা একটু ওয়েট কর দেখি দোস্ত আছে কিনা ৷ ফোন দিল দোস্তকে ৷ হ্যালো দোস্ত কই তুই? আমি দোকানেই আছি ৷ কি ব্যপার বলতো ৷ না এমনিতেই তোর ওখানে আসতেছি ৷ ঠিকআছে আয় ৷ ওই তোরা চলে যা ৷ আর ভাল কথা, আব্বা, আম্মাকে বুঝাইয়া বলিস যাতে কোন টেনশান না করে আমি আছিনা ৷ যতক্ষন আছি যে কোন মুল্য ছোটর রিমান্ড বাতিল করাবোই ৷ এই বলে বিদায় নিল বড় ভাই ৷ চললো বন্ধুর কাছে ৷ বন্ধু করি তোর এই অবস্থা কেন? তোর চেহারা ছুরতের একি অবস্থা ৷ কিযে রসনা দোস্ত আমার ছোট জেলে আর তুই আছিস আমার চেহারা লইয়া ৷ সত্যিরে দোস্ত তোর মত ভাল দোস্ত আর ভাই কে হতে পারে? হ আর হাওয়া দিতে হবেনা চল চা খাব ৷ কি বলিস তুই চা খাবি কত দিন পর এলি তাও আবার দুপুর বেলা , মনে হয় এখনো খাবার খাসনি ৷ বাদদেতো ওসব এখন খাবার দাবার ভাল লাগেনা ৷ দোস্ত জোর করে টেনে পাশের মিনি চাইনিজে নিয়ে গেল ভাইকে ৷ খাবারের অর্ডার করলো ৷ ভাই বললো দোস্ত আমি খেতে পারবোনা সব নষ্ট হবে ৷ যতটুকু খেতে পারিস খা নাহয় আমি রাগ করবো ৷ ভাই খেতে শুরু করলো ৷ দু তিন লোকমা খেয়েই থামলো ভাই ৷ দোস্ত বললো কিরে কি হল ? তোর চোখে পানি কেন? চাইনিজ খাচ্ছিতো তাই ৷ এটা কি নতুন খাস নাকি তুই? না নতুন না কিন্তু দোস্ত আমার ছোটকে যে ভাত দেওয়া হয় সেটা নাকি লাল ভাত ইট পাথরে ভরপুর ৷ গন্ধও লাগে ৷ আর আমি চাইনিজে বসে খাচ্ছি ৷ আচ্ছা বলতো ও তোর ভাই না সন্তান ৷ ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের এত দরদ আমি কখনো দেখিনি ৷ ঠিকই বলেছিস দোস্ত ওরা আমার সন্তানের চেয়েও প্রিয় ৷ ওদেরকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন ৷ একজন ইঞ্জিনিয়ার হবে একজন বিসিএস ৷ আর দোস্ত আমার একটা বাবু হইছে এইতো ছোট এরেষ্ট হওয়ার আগের দিন বিকেলে ৷ বাপের মুখটাও ভাল করে দেখা হয়নি ৷ ঢাকা চলে আসতে হলো ৷ যাক ভাইটা ছাড়া পেলে দুভাই একসাথে বাডি গিয়ে বাপরে দেখবো ৷

Saturday, February 14, 2015

গল্প নয় বাস্তব সত্য -06

গল্প নয় বাস্তব সত্য -06 ================ ঠিক আছে বলে উকিলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মেসের দিকে রওয়ানা হলো ভাই ৷ পকেটে অবস্থা নাজুক ৷ রিক্সা ভাড়াটা হবে হয়তো ৷ দুপুরের খাবার এখনো খাওয়া হয়নি ৷ মেসে ফিরে দেখে খাবার আছে খেয়ে নিল কয়েক লোকমা বাকীটা যোগ হল এঁটোর তালিকায় ৷ এটা আজ ক'দিনের কমন ব্যপারে পরিনত হয়েছে ৷ খাবার শেষে দোকানে গেল রিচার্জ করতে হবে ৷ মনে হল পকেটতো খালি ৷ ফিরে এসে পরিচিত বড় ভাইয়ের কাছ থেকে শ'পাঁচেক টাকা নিলো ৷ মোবাইলে রিচার্জ করলো দুশ টাকা ৷ মেসে ফিরে এসে কোথায় ফোন দেওয়া যায় ভাবছে ৷ কাকে ফোন দিলেইবা টাকা পাওয়া যাবে সবারই তো আর্থিক অবস্থা খারাপ ৷ তবুও টাকাতো জোগাড় করতেই হবে কোর্টে গেলেইতো টাকা দরকার ৷ মনে হয় কোর্টের ইটও হা করে থাকে টাকার জন্য ৷ টাকা ছাড়া সেখানে কিছুই হয়না ৷ তার ওপর রিমান্ডতো যে কোন মূল্যেই বাতিল করতে হবে ৷ যত টাকাই লাগুকনা কেন ৷ প্রয়োজনে রক্ত বিক্রি করতে হবে তবুও ছোটর রিমান্ড হতে দেওয়া যাবেনা ৷ রিমান্ড আসলে কি ? কি করে রিমান্ডে ? তার স্বচ্ছ কোন ধারনা নাই ভাইয়ের ৷ তবে খবরে, সোস্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে ৷ ইদানিং বিরুধীদের ধরলেই রিমান্ড আর রিমান্ড মানেই হাড় গোর ভেঙ্গে একাকার ৷ পুলিশ ছোটর সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে ৷ যদি একদিনও রিমান্ড মঞ্জুর করে তাহলে কি হবে ৷ বাবা মা খবর পেলে হয়তো, ,,,,,,,,, না এ হতে পারেনা ৷ শুরু হল চারিদিকে ফোন ৷ বিপদে বন্ধুর পরিচয় দিতে অনেকেই ব্যর্থ কিন্তু এক বন্ধু বললো টেনশান করিসনা বিশ, পঞ্চাশ যা কাল এসে নিয়ে যাস ৷ কৃতজ্ঞতার সুরে ভাই বললো দোস্ত আমি খুবই চিন্তিত ছিলাম বাচালি তুই ৷ দোস্ত বলে কি বলিস এটা কোন কথা, এতটুকু যদি তোর বিপদে করতে না পারি তাহলে আমরা কিসের দোস্ত ৷ দু এক বছর আগে হলেতো লাখ টাকার জন্যও তোর কাউকে ফোন দিতে হতোনা তুই খুব ভালরে দোস্ত ৷ জীবনে অনেকের জন্য অনেক করেছিস ৷ আজ অনেকেই তোর বিপদে পাশে দ্বাডাকে পারেনি আমিযে পেরেছি সেটাতো আমার সৌভাগ্য ৷ ভাই বললো দোস্ত সেটা এখন গল্প বাদ দে ওসব ৷ আর দোস্ত আমি কাল নয় পরশু আসবো ৷ কাল ছোটকে দেখতে যেতে হবে ৷ দোস্ত বললো ঠিক আছে যখন সময় হয় আসিস ৷ ওকে দোস্ত ৷ ভালো থাক ৷ সোমবার সকাল গ্রামের বাড়ি থেকে চাচাতো, জেঠাতো আর মেজো এলো ৷ সবাই জেলগেটে ৷ ভাইয়ের কাছে টাকা নেই কিন্তু ওদের কাছে আছে ৷ তাই আজ আর ভাবতে হলোনা ভাইকে ৷ ছোটর সাথে সাক্ষাতের সময় হলো সবাই ভিতরে কিন্তু ছোটর আসার খবর নাই ৷ তাই আবার ভেতরের কাগজ কলম ওয়ালা একজনকে ইশারা করে ডাকলো আমার ভাইকে একটু ডেকে আনবেন? নাম, বাপের নাম , থানার নাম কন ৷ টাকা লাগবে কিন্তু তিনশো পেছন থেকে চাচাতো এসে বললো পঞ্চাশ দেবো নিয়ে আসেন ৷ না হবে না দুশত দিতে হবে ৷ অবশেষে একশততে ডিল ফাইনাল ৷ লোকটি চলে গেল ৷ কিছু সময় পর ছোটকে সাথে নিয়ে আসলো লোকটা ৷ এইযে ভাই আপনার ভাইরে আনছি টাকাটা দেন ৷ একশত টাকা বের করে দিল চাচাতো ৷ চারজন সাক্ষাৎ প্রার্থী ছোটর সাথে একের পর এক একটু আধটু কথা বলে নিচ্ছে ৷ এরই মধ্যে একটা লোক ভেতর থেকে ছোটকে টেনে সরিয়ে দিচ্ছে ৷ বলছে সাক্ষাৎ টাইম শেষ আরও কথা বলতে হলে দুশত টাকা দেন ৷ তারমানে তিনশত পাক্কা ৷ এবার মেজো দুশত দিলো ৷ সবাই আরো কিছুক্ষণ কথা বলে বিদায় জানালো ছোটকে ৷চলচে........

গল্প নয় বাস্তব সত্য-৫

গল্প নয় বাস্তব সত্য-৫ ================ নামাজ শেষে বের হয়ে একটা রিক্সায় চড়ে মেসে ফিরলো ভাই । কিছু ভেবে পাচ্ছেনা ভাই কিভাবে আব্বাজান-আম্মাজানকে খবরটা জানাই ? ভাবতে ভাবতে ঠিক করলো নুর আংকেল কে ফোন দেই । বলি আব্বাকে যেন শান্তভাবে বুঝিয়ে বলে ছোটর কথা । আর যেন বলে চিন্তা করবেননা বড় আছেতো রবিবারেই জামিন হয়ে যাবে । হ্যালো আসসালামু আলাইকুম। কাকা কেমন আছেন ? আলহামদুলিল্লাহ তুমি কেমন আছো ? ভাল কাকা । কাকা আপনি একটু কষ্ট করতে পারবেন ? কি ব্যপার বলতো । না কাকা আমাদের ছোট এরেষ্ট হইছেতো খবরটা এখনো আব্বা আম্মা জানেনা । আপনি যদি আমাদের বাড়ী গিয়ে বিষয়টা একটু ঠান্ডা মাথায় বুঝিয়ে বলতেন তাহলে ভাল হতো । ঠিক আছে তুমি চিন্তা করোনা আমি বুঝায়ে বলবো । ওর এখন কি খবর ? কোথায় আছে ? আছে কেন্দ্রীয় কারাগারে । মাত্র দেখা করে বের হলাম । খাবার দাবার , টাকা পয়সা কিছু দিছো ? জি দিছি । আপনি একটু কষ্ট করে যাইয়েন কাকা । ঠিক আছে আমি এক্ষুনি যাচ্ছি । আল্লাহ হাফিজ । তার আধা ঘন্টা পরই আব্বাজানের ফোন বাবা ছোটর কি হইছে ? না কিছু হয়নাইতো আব্বা । আমারে লুকাস আমি তোর নুরু কাকার কাছ থেকে সব শুনছি বাবা । আব্বা আপনি কোথায় আম্মা কাছে আছে নাকি ? না তোর আম্মাতো বাড়ীতে আমি বাড়ীর বাহিরে চলে আসছি । বল ছোটর কি খবর ? ভাল আব্বা আশা করি রবিবারে জামিন হইয়া যাবে । আর আপনি চিন্তা করবনেনা আম্মাকে এখনই কিছু বলার দরকার নাই । আর দোয়া করবেন, দোয়াতো করিই । তুইও সাবধানে থাকিস বাবা । জি আব্বা । আসসালামু আলাইকুম । কেটে গেল আরো একটি নির্ঘুম রাত ৷ পরদিন শনিবার কিছু টাকা সংগ্রহ করতে হবে কালযে আবার কোর্ট আছে ৷ কেয়েকজন বন্ধুবান্ধবের স্বরনাপন্ন হয়ে টাকা জোগাড় করলো ৷ উকিলের সাথে কথা বললো কয়েক দফা ৷ টাকা একটু বেশী করে নিয়া আসবেন কালই জামিন হবে আশা করি ৷ ঠিক আছে ৷ স্বপ্ন দেখে কাল আদালতে হাজির হলেই জামিন হবে ভাইটার ৷ তারপর ছোটকে নিয়ে বাড়ি যাবো ৷ রবিবার সকালেই কোর্টে হাজীর হয়ে উকিলের সাথে দেখা করে ভাই ৷ বেলা গরিয়ে প্রায় সাড়ে দশটা ৷ একজন পুলিশকে পঞ্চাশ টাকা দিয়ে ভেতরে খবর নিল ছোট আসছে কিনা ৷ না আসেনি গেইটের সামনেই অপেক্ষায় থাকলো ভাই ৷ প্রতিটি প্রিজনভ্যানের এপাশ ওপাশে উকি মারে কখন আসবে ছোট ৷ দুদিন ভাইটা কি খেয়েছে কি জানি ৷ ও আসলেই গরম কাচ্ছি বিরিয়ানী পাঠাতে হবে ৷ হঠাৎই চোখে পড়ল প্রিজনের ছোট ছোট ছিদ্র দিয়ে ছোটর মলিন মুখখানা দেখা যায় ৷ ভাইয়ের চোখ ভরে উঠলো জলে ৷ কলজেটা একটা মোচরে উঠে ৷ কি হয়েছে ছোটর একি হাল ৷ তবুও স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই বললো ভাইয়া তোর জন্য খাবার পাঠাচ্ছি খেয়ে নিস ৷ আর কোর্টে উঠানোর সময় কথা বলবো ৷ প্রিজনভ্যান হাজতের ভিতর ঢুকে গেল ৷ ভাই গেল হোটেল থেকে খাবার আনতে ৷ এনে পুলিশকে দিয়ে পাঠালো ৷ তারপর অপেক্ষা করতে লাগলো কখন কোর্টে উঠাবে আমাদের ছোটকে? গেটেই দ্বারিয়ে ভাই বেলা প্রায় আড়াইটা হাতকড়া হাতে ছোটকে নিয়ে আসছে পুলিশ ৷ কলিজাটা আবার ছ্যাৎ করে উঠলো ভাইয়ের ৷ দ্বিতীয় বারের মত ছোটকে হাতকড়া পড়া অবস্থায় দেখলো ভাই গত বৃহঃস্পতিবার আর আজ ৷ এর আগে তাদের পরিবারের কাউকে কখনো পুলিশে যেতে হয়নি ৷ এবারই প্রথম ৷ মামলার এজাহারে উল্লেখ্য আছে ছোটর নেতৃত্বে নাকি পাঁচশত হেফাজত নেতাকর্মী পুলিশের ওপর হামলা করেছিল ৷ অথচ হেফাজতের ঘটনার সময় ছোট ছিল বাডিতে ৷ আর ঢাকায় থাকলেই বা কি পনের বছরের একজন বালকের নেতৃত্বে পাঁচশত লোকের পুলিশের ওপর হামলা শুনলে শয়তানও বিশ্বাস করবেনা ৷ কিন্তু আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবপারে ৷ পারে তাঁলকে তিল আর তিলকে তাল বানাতে ৷ কোর্টে তোলার পথে ছয়তলা পর্যন্ত ছোট পিছে পিছে ছুটে ভাই ৷ খুব বেশী কথা বলা যায়নি ৷ শুধু শান্তনা স্বরুপ বলেছিল টেনশান করিসনা আজই জামিন হবে ৷ এজলাস চলছে কাঠগড়ায় আসামিরা ৷ ছোটকে কাঠগড়ার অন্য সকলের সাথে দেখা যায়না ৷ ভাই এজলাস কক্ষে ঢুকলে পুলিশ তাকে বের করে দেয় ৷ তাই বাইরে দারিয়ে উকি মেরে দেখছেন ৷ উকিল কিংবা মেজিষ্ট্রেট কারো কথাই শোনা যায়নি ৷ এবার ছোট কে বের করে নিয়ে যাবে ছোটর মুখটা অন্ধকার ৷ ভাই মেজিষ্ট্রেটের কথা না শুনলেও ছোট ঠিকই শুনেছে আবার ছোটর পিছু দৌড়াতে লাগলেন ভাই ৷ তোর জন্য শুকনো খাবার আর পানি এই পলিথিনে ৷ পুলিশ সেটা নিতে দিচ্ছেনা ৷ টাকা ছাড়া কোন কাজই হয়না ৷ একশ টাকা দিতে হল তিনশত টাকার খাবারের জন্য ৷ এরই মধ্যে ছোটর কাছ থেকে ভাই জানল রিমান্ড শুনানি বুধবার ৷ মনে হয় ভাইয়ের কলিজায় আগুন লাগলো ৷ এখন কি হবে ৷ যদি ছোটর রিমান্ড হয় বাঁচবেনা আমার ভাইটা ৷ ইতিমধ্যেই হাজতের গেটে চলে আসলো ৷ ভাই ছোটকে বললো তুই চিন্তা করিসনে কিচ্ছু হবেনা ৷ ওসব রিমান্ড টিমান্ড কিচ্ছু হবেনা তোর ৷ ছোটকে নিয়ে গেল ভিতরে ৷ ভাই ছুটলো উকিলের কাছে উকিল সাহেব আমার ভাইয়ের জামিন হলোনা ৷ উকিল বলে বুধবারে হবে ৷ টাকা লাগবে অনেক রিমান্ড বাতিল ও জামিন দুটি মিলিয়ে প্রায় বিশ হাজার ৷ বুধবারে টাকা নিয়া আসবেন বেশী করে ৷ চলবে.....

গল্প নয় বাস্তব সত্য -4

গল্প নয় বাস্তব সত্য -4 =============== অপেক্ষার প্রহর অনেক দীর্ঘ হয় ৷ সময় যেন কাটছে না ৷ কখন বাজবে এগারটা? একাকি অপেক্ষমান ভাই ৷ অবশেষে এগারটায় সাক্ষাৎ কক্ষের দিকে ঢুকবে এ সময় জেল পুলিশের দেহ তল্লাশি ৷ মোবাইল মানিব্যাগ সব সাথে ৷ জেল পুলিশ বলছে দুশ টাকা দাও ৷ দিয়ে ভেতরে ঢুকল ভাই ৷ শত শত মানুষের সমাগম ৷ পা ফেলার যায়গা নাই ৷ প্রচন্ড গরম ৷ যদিও ওপরে কয়েকটি ফ্যান চলছে ৷ ঘাম ঝরছিল সকলের শরীর থেকে ৷ এদিক ওদিক উকি মারে ভাই না ছোটকে দেখা যাচেছ না ৷ মোটা মোটা রডের ব্যরিকেডের সাথে মোটা গ্লাস লাগানো মাঝখানে ছয় সাত ইঞ্চি জায়গায় টিন লাগানো ৷ টিনে তারকাটার ফুটো ৷ গ্লাসের ওপাশ থেকে কাগজ কলম হাতে একলোক ইশারা করে বলছে টিনের ফুটোয় কান লাগাতে ৷ তাই করলেন ভাই বলছে আসামির সাথে দেখা করবেন ? হ ৷ নাম, বাবার নাম, থানার নাম বলেন ৷ আর কোন জায়গায় আছে বলেন ৷ জানিনা কোথায় আছে, তবে গতকাল এনেছে ৷ ঠিক আছে খুজে এনে দেব তিনশ টাকা লাগবে ৷ জেল কোর্ট সব জায়গায় যেন ফিক্সড রেট তিনশ ৷ না ভেবেই ভাই বললো ঠিক আছে খুজে আনুন ৷ লোকটি বললো এখানেই দ্বারিয়ে থাকুন, কোন দিকে সরবেননা ৷ ওকে ভাই ৷ প্রায় বিশ মিনিট পর লোকটি আসলো সাথে ছোট ৷ কিরে ভাইয়া তোর কি খবর ৷ খুব কষ্ট হচেছ বুঝি? ছোট মনে হয় ভাইয়ের মুখটা দেখেই বুঝে গেছে ভাইয়ের বুকের ভেতরটায় কতটা কষ্ট ৷ ছোট নিজেকে শক্ত করে বললো না কোন সমস্যা নাই ৷ আপনি চিন্তা করবেননা ৷ এরই মধ্যে লোকটি বললো ভাই টাকাটা দেন ওই যে ওনার কাছে দেন ৷ ভাই জেল পুলিশের হাতে তিনশ টাকা দিলো ৷ ছোট বলছে ভাইয়া আম্মা আব্বা জানে? না সূচক উত্তর ভাইয়ের ৷ তোর কি লাগবে বল, টাকা, খাবার ৷ তোরতো অনেক কষ্ট হয় ৷ ছোট বললো ভাইয়া খাবার বেশি দিয়েননা ৷ গতকাল যেগুলো দিছিলেন সব ওরা নিয়া গেছে ৷ কারা? কয়েদিরা ৷ এই কয়েদিরাই জেলখানায় মাতব্বরি করে ৷ ঠিক আছে টাকা দিয়ে যাব তুই কিনে কিনে খাস ৷ ভাইয়া এক পেকে স্টার সিগারেট দিয়েন ৷ কেন বিরি কি করবি? ভাইয়া আমি আসার সময় ম্যাট বলছে তোর সাক্ষাত আইছে আমার লাইগ্যা এক প্যাকেট স্টার দিতে বলবি ৷ আচ্ছা ঠিক আছে ৷ তুই চিন্তা করিস না ভাইয়ে আছি না ৷ রবিবারেই তোর জামিন হইয়া যাইবো ৷ সাক্ষাতের সময় শেষ ৷ বিদায় নিয়ে চলে আসলো ভাই ৷ ছোট ও ভিতরে চলে গেল ৷ ছোটর জানি কেমন লাগছে জানেনা ভাই ৷ কিন্তু ভাইয়ের মনটা খারাপ ৷ ভাই ভাবছে আমার ছোটকে ওরা মারবে নাতো? বাইরে বেরুলো ভাই ঘামে চুপচুপে বদন ৷ কত কথা বলার ছিল ছোটকে সব বলা হয়নি ৷ ভাই আগে কখনো ছোটর জন্য এতটা চান অনুভব করেনি আজ তিনদিন যতটা করছে ৷ সব সময় ফোন করে খোজ নিতো ৷ পডালেখা ও খাওয়া দাওয়া ঠিকমতো করিস ৷ কিন্তু আজ তিনদিন খেতে গেলে মনেহয় ছোট কি খেয়েছে? গোসলের সময়ও ভাবে ছোট কি গোসল করতে পারে ঠিকমতো? আরও কতকিছু ৷ বাইরে বেরিয়ে একটু জিরিয়ে নিলো ভাই ৷ তারপর একলোককে বললো ভাই ভিতরে খাবার পাঠাবো কিভাবে ? লোকটি বললো ওইযে ক্যান্টিনে যান ওখান থেকে সব পাঠানো যাবে ৷ ধন্যবাদ বলে ক্যান্টিনে গেল ভাই ৷ কারো কাছ থেকে কোন তথ্য জানলে ৷ তাকে ধন্যবাদ জানাতে কখনো ভুল হয়না তার ৷ ক্যান্টিনে গিয়ে কিছু কেনাকাটা করলো ৷ আরো কিনতে চায় কিন্তু ছোট যে নিষেধ করেছিল ৷ ওরা নাকি ছিনিয়ে নিয়ে যায় ৷ ক্যান্টিন থেকে একটা বিলের কপি দিল ভাইকে ৷ দিয়ে বললো আপনি চলে যান আসামি খাবার পেয়ে যাবে ৷ ঠিক আছে ৷ এবার টাকা দিতে হবে ৷ ক্যান্টিন থেকে জেনে নিল টাকা কিভাবে দিবে? পরে যেখানে গিয়ে টাকা দিল ৷ কোনকিছুই ভাল লাগছেনা ভাইয়ের ৷ ইতি মধ্যেই জুমার আযানের আওয়াজ ভেসে আসলো কানে ৷ ওজু করে মসজিদে গেল ৷ নামাজ শেষে মহান রবের দরবারে দুহাত তুলে চোখের জলে ভাসতে ভাসতে তাঁর দরবারে ফরিয়াদ করলো ৷ হে আল্লাহ আমার ভাইকে মুক্ত করে দাও ৷ সকল মজলুমকে তুমি হেফাজত কর ৷ তুমিতো সব পারো, তুমিতো সব জান ৷ এখনো বাবা মাকে বলা হয়নি ছোটর বিপদের খবর ৷ চলবে..........

গল্প নয় বাস্তব সত্য 3

গল্প নয় বাস্তব সত্য 3 ============= গতরাত নির্ঘুম কেটেছিল আজ সারা দিনও অনেক ধকল গেল খুব ক্লান্ত শরীরটা বিছানায় শরীরটা লাগাতেই গভীর ঘুম ৷ কখন যে রাত তিনটা বাজল টেরও পেলনা ৷ হটাৎ চিৎকার করে ঘুম থেকে জেগে উঠলো ওরা আমার ভাইকে মারছে ৷ রুমমেটরা সবাই জেগে গেল ৷ কিরে কি হইছে তোর? ওরা আমার ভাইরে মারতেছে আমি এখন কি করবো? আমার ভাল লাগতেছেনা আমি আমার ভাইকে দেখতে যাব ৷ পাগল হইছো রাতে তোমার জন্য জেলখানার গেট খুলে রাখছে ৷ তোমার ভাইয়ের কিচ্ছু হবেনা ৷ সকালে গিয়ে দেখে আসিস ৷ বাকী রাতটা নির্ঘুম কাটল ৷ ফজরের আযান শুনে গোসল করে নামাজ পরলো ৷ তারপর বের হল রাস্তায় ৷ চারিদিক ফাকা দু একটা রিক্সা ছাড়া কিছু দেখা যাচেছ না ৷ লোকজনও খুব কম ৷ নাস্তা খাবে হোটেলও খোলা নাই ৷ কিছু সময় পর সবকিছু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে ৷ কিন্তু সে মানুষটি ছাড়া ৷ স্বপন মামার হোটেলে ততক্ষণে পরটা হচেছ ৷ মামা নাস্তা দাও ৷ পরটা ডিম, ডালভাজি দিল ৷ একটা পরটা খেয়েই খাওয়া শেষ ৷ ভাবতে লাগলো ছোট কি খেয়েছে? মামা কি হল আর খাবেননা ৷ না মামা ভাল লাগতেছেনা ৷ কি হইছে কোন সমস্যা ৷ মাথা নেরে হুম ৷ মামা সমবেদনা জানালো ৷ বের হয়ে রিক্সা ডেকে জেলগেটে সময় 7:15 ৷ এখনো নাকি টিকিট দেওয়া শুরু হয়নি আরও অপেক্ষা করতে হবে ৷ ভাই টিকিট কোথায় দেয় চা ওয়ালাকে জিজ্ঞস করলে বললো ঐ দিকে যান গিয়ে লাইনে খাড়ান ৷ সিরিয়ালেতো অনেক মানুষ অন্তর চোখই ভাইয়ের মত ৷কেউ কেউ আবার স্বাভাবিক ৷ পরে জানলাম কয়েদিদের আত্বীয় ৷ সহ্য হয়ে গেছে ৷ তাই আর চোখের জলে বুক ভাসেনা ৷ আধা ঘন্টা পর সিরিয়াল পেলাম ৷ বললো নাম বলেন ৷ নাম পিতার নাম যে থানায় গ্রেফতার সে থানার নাম ৷ সবই বললাম ৷ এবার জিজ্ঞেস করল কয়েদি না হাজতি চেয়ে থাকলাম উত্তর দিতে পারিনি ৷ পরে জিজ্ঞেস করলো কবে গ্রেফতার হয়েছে? বললাম বুধবার ৷ দশ টাকা নিয়ে টিকিট দিল ৷ ভাবলাম এখনি হয়তো দেখবো ছোটকে ৷ কিন্তু টিকিটের গায়ে দেখি সাক্ষাত টাইম এগারোটায় ৷ চলবে....... ..

গল্প নয় বাস্তব সত্য 2

গল্প নয় বাস্তব সত্য 2 =========== দিনটা ছিল বুধবার বাবা মাকে কিছু না বলেই জরুরী কাজে ঢাকা যেতে হবে বলে ঘর থেকে বের হয় ৷ রাস্তায় এসে বন্ধুর কাছে বলেছিল ঢাকা যাচ্ছি ছোট ভাই এরেষ্ট হইছে ৷ তুই কাউকে বলিসনা ৷ বিশেষ করে আমাদের পরিবারের কাউকে না ৷ বিপদের পথ বহু দীর্ঘ হয় ৷ অবশেষে থানায় পৌছালে ৷ তারপর থেকে কোর্ট পর্যন্ত লিখেছি ৷ কোর্ট হাজতের গেটের কাছে ঘেষতে দেয়না কোর্ট পুলিশ ৷ পেছন থেকে চাচাতো ভাই সালাম দিল ৷ ওয়াআলাইকুম আস্সালাম ৷ কিরে তুই কোথ্থেকে ? জানলি কি ভাবে? বন্ধু জানিয়েছে ৷ ভাই আপনিতো মনে হয় কিছু খাননি ৷ চলেন কিছু খেয়ে আসি ৷ না আমার ক্ষিদে নেই খাবনা ৷ টেনশন করেন কেন কিছু হবেনা আজকেই জামিন হবে ৷ প্রতিটি প্রিজন ভ্যান আসলেই এপাশ ওপাশ উকি মারে কিন্তু দেখা মিলেনা ৷ হঠাৎই একটা ভ্যানে ছোটকে দেখে ভাই ৷ ছোট একরাত থানা হাজতে থেকে অনেক শক্ত হয়ে গেছে ৷ মুরব্বিদের মত করে বলছে ভাইয়া উকিলের সাথে কথা বলছেন ৷ হ কইছি তুই চিন্তা করিসনা গাড়ি ঢুকে গেল আর কথা হলো না ৷ হ্যালো উকিল সাহেব ছোট আসছে ওরে হাজতে নিয়া গেছে ৷ সমস্যা নাই আপনি ওরে খাবার পাঠান ৷ খাবার কিনে আনার পর এক পুলিশ বলে আসামিকে খাবার দিবা? হ ৷ একটা কাগজে নাম ঠিকানা লেইখ্যা সাথে তিনশ টাকা সহ দাও ৷ বড় ভাই তাই করলো ৷ অপেক্ষা করতে থাকলো কখন কোর্টে উঠাবে ৷ কখন জামিন হবে বিকেল তিনটায় কোর্টে উঠালো কিন্তু জামিন হলোনা ৷ কলজেটা ফেটে যাচ্ছে তবুও নিজেকে শক্ত রেখে ছোটকে বললো তুই চিন্তা করিসনা রবিবার জামিন হয়ে যাবে ৷ পরে চোট কে আবার হাজতে নিয়ে রাখে ৷ ভাই চলল কিছু শুকনো খাবার আর পানি আনতে ৷ এনেই আবার ওই পুলিশকে পঞ্চাশ টাকা দিয়ে খাবার গুলো পাঠালো ৷ অপেক্ষা করতে করতে সারে পাঁচটায় প্রিজনভ্যানে চোটকে দেখে বলে তুই চিন্তা করিসনে রবিবারে জামিন হয়ে যাবে ৷ প্রিজনভ্যান চলে গেল ৷ ভাই তাকিয়ে থাকল পেছন থেকে যতক্ষন দেখা গেল ৷ ব্যর্থ ভাই রিক্সা চেপে মেসে আসল ৷ গতকাল দুপুরে খেয়েছিল এখনো কিছু খায়নি একটু আধটু পানি ছাড়া ৷ প্রচন্ড ক্ষুধার্থ কিন্তু মন চায়না খেতে ৷ এমনিতে আব্বাজানের ফোন ৷ হ্যালো বাবা ছোটর কি হইছে ওর ফোনে কল ঢুকছেনা ৷ না আব্বা কিছু হয়নি একটু আগেই ওর ফোনে না পেয়ে ওর বন্ধুর ফোনে কথা বলেছি ৷ ওর ফোনটা নাকি নষ্ট হয়ে গেছে ৷ চোট ভাল আছে আপনি চিন্তা করবেননা ৷ বৃদ্ধ বাবাকে খবরটা দিতে পারলনা বড় ৷ এমনিতেই বাবার তবিয়তে খুব একটা ভালনা ৷ কান্না যেন থামছেনা ৷ ক্ষুধায় কাতর হয়ে খেতে বসল বসেই অঝোর কান্না আমি খাচ্ছি আমার ভাইকে কি ওরা খেতে দেবে? দু চার লোকমা খেয়েই হাত ধুলো ভাই ৷ পেটে খাবার ঢুকছেনা ৷ চলবে......

গল্প নয় বাস্তব সত্য 1

গল্প নয় বাস্তব সত্য 1 ============== বাঙ্গালী জাতীর সাধারন প্রবনতা ঝামেলা কঠিন না হলে মিমাংসা হয়না ৷ তাইতো আজ দেশের এমন হাল ৷ যদি আমরা মানবিকতার পরিচয় দিতে পারতাম তাহলে আজ দেশ এতোটা সংকটে পরতোনা ৷ আজ একে অপরকে মেরেই যেন শান্তি পাচ্ছে ৷ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সার্টিফায়েড সন্ত্রাসীতে পরিনত করেছে ৷ তারা কোন কারন ছাড়াই মারছে মানুষ ৷ নিরীহ লোকদের তুলে নিয়ে চাঁদা দাবী করছে ৷ চাঁদা না পেলে খুন করে ক্রসফায়ার বলে চালিয়ে দিচ্ছে ৷ অথবা অস্বীকার ৷ কিন্তু আমাদের দরদী প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল দায়ভার নেওয়ার ঘোষনা করেছেন ৷ ও ম্যাডাম কতটা খুনের দায়ভার আপনি নেবেন? কতটা অপকর্মের দায়ভার আপনি বইতে পারবেন ৷ হয়তো অনেক পারবেন ৷ আপনার দায়ভার বহনের ক্ষমতা অনেক ৷ কিন্তু আপনি কি সঠিকভাবে জানেন আপনি দায়ভার নেওয়ার পর তাদের অপকর্ম কতগুন বেডেছে? হয়তো হা হয়তো না ৷ কিন্তু জনগন ঠিকই জানে ৷ এমনিতেই জনগনের জান মালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগনকে হয়রানি করতে ব্যস্ত থাকে সর্বক্ষণ ৷ আবার আপনি দিয়েছেন দায়মুক্তি ৷ বছর দেরেক আগের কথা এক বড় ভাই খবর পেল তার আদরের ছোট ভাইকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে ৷ পাগলপ্রায় হয়ে ছুটে আসে সুদুর গ্রামের বাড়ি থেকে রাজধানী শহরে ৷ ছোট ভাইকে দেখতে রাত 11:30 যায় সংশ্লিষ্ট থানায় ৷ ছোট ভাইয়ের নাম ঠিকানা বলে দেখা করার অনুমতি চায় ৷ থানার তদন্ত কর্মকর্তা শুরু করে অচেনা একটা আঞ্চলিক ভাষায় গালাগাল ৷ ক্ষোভে কলজে ছিড়ে যাওয়ার উপক্রম তবুও আদরের ছোট ভাইয়ের সাথে দেখা করে একটু সাহস দেবে ভেবে চুপ মেরে গালাগাল সহ্য করেছে ৷ বলছে স্যার একটু খাবার এনেছি ভাইটির জন্য যদি একটু অনুমতি দিতেন ভাইটাকে খেতে দিতাম ৷ উত্তর পেল তোর ভাইকে ধরে আনার সময় যে খাবার দিয়েছি অনেকদিন আর খেতে হবে না ৷ কাটা মুরগীর মত ছটপট করতে লাগলো বড় ভাইয়ের মন নাজানি কতটা মেরেছে আমার ভাইটাকে ৷ তারপর কর্মকর্তা বলে তুই কি তোর ভাইকে ছারাবি দে দেড় লাখ টাকা দে ৷ 154 দিয়ে দেব কাল কোর্টে দু হাজার খরচ করলেই জামিন হয়ে যাবে ৷ বড় ভাই পকেট মানিব্যাগ সব হাতিয়ে হাজার দশ টাকা বের করে ৷ কর্মকর্তা বলে দেড় লাখ লাগবে নাহয় তোকেও ভিতরে ঢুকাইয়া দিমু ৷ বড় ভাই কাকুতি মিনতি করে বলে স্যার গতকাল আমার বাচ্ছা হইছে মেডিকেলের বিল দিতে টাকাটা ধার করে জোগাড় করছি সেটাই নিয়া আসছি আমার ভাইরে ছাইড়া দেন ৷ তখন টিভিতে চলছিল ফুটবল খেলা গোল হল বলে দেখতো গোলটা সুন্দর হইছেনা? হ স্যার ৷ ওই তুই কোনদল করস ? স্যার বার্সা ৷ কেন ?তুই মিউনিখ করবি আমি মিউনিখ করি ৷ মিউনিখ বুঝলিতো ? হ বুঝছি ব্রায়ান মিউনিখ ৷ স্যার আমার ভাইটারে ছাইড়া দেন ৷ কইছিনা দেড় লাখ নাহয় ভাগ দুরে যাইয়া মর কাছে মরলে, ,,,, বড় ভাই ব্যর্থ চলে যাচ্ছে ওই কোথায় যাস ৷ কইছিনা তোকেও, ,,, কেটে গেল তিন ঘন্টা ৷ অবশেষে কোথায় যেন গেল সুযোগে বড় ভাই ভাগল ৷ যদি আমিও আটক হই ভাইটার কি হবে ৷ বের হয়ে কাঁদছে অঝোর ধারায় আমার ভাইটাকে জালিমের কারাগারে রেখে আসলাম আল্লাহ তুমি হেফাজত করো ৷ কখন যে রাত পেরিয়ে সকাল হল টেরই পায়নি বড় ভাই ৷ ফজরের আযান হলে নামাজে গেল ৷ নামাজ শেষে পরিচিত বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় উকিল ঠিক করলো ৷ উকিল বললো এখন আটটা বাজে নয়টার মধ্যে ওর পরিক্ষার কাগজপত্র জন্মনিবন্ধন সহ এই কার্ডের ঠিকানায় আমার অফিসে দেখা করবেন ৷ ঠিক আছে বলে রিক্সা ডেকে রিক্সায় চেপে বসল বড় ভাই ৷ বৃষ্টি ঝরছে অঝোর ধারায় সাথে ভাইয়ের চোখের জল, মিলেমিশে একাকার ৷ ভাইয়ের মনে হচেছ তার দুখে বুঝি আকাশও কাঁদছে ৷ নয়টার কিছু পর কাগজ পত্রসহ উকিলের চেম্বারে হাজির হয় ভাই ৷ এইযে সব কাগজ এনেছি জামিন হবেতো আমার ভাইয়ের? হবে হবে হাজার তিনেক টাকা দেন ৷ আর আপনি হাজতের গেইটে থাকেন দেখন ও আসে কিনা ৷ আসলে জানাবেন ৷ ঠিক আছে কাগজ পত্র ভাল মত ঠিক করেন যাতে আমার ভাইয়ের জামিন হয় ৷ ততক্ষনে কয়েকজন শুভাকাংখী চলে আসে ৷ বাকীটা পরে লিখছি, উপন্যাস নয় আমার জীবনের বাস্তবতা ৷